ভারি বর্ষণ উত্তর অঞ্চলে বন্যা- উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী

123

রংপুর বার্তা.কম:ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। দিনাজপুর ও লালমনিরহাটে চার শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতক রোববার দেশের মধ্য, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর ২৫ টি পয়েন্টে পানি বিদপসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট।পানিবন্দি মানুষ ভীষণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দুর্গত মানুষ শহর রক্ষা বাঁধ, স্কুল-কলেজসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

দেশের সর্ববৃহত্ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। প্রচন্ড পানির চাপে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। উদ্ধার তত্পরতা চালাতে দিনাজপুর ও নীলফামারীতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

দিনাজপুর: টানা তিন দিনের বর্ষণে দিনাজপুরে পুনর্ভবা ও আত্রাই নদের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক ও দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের কিছু অংশ এবং পথঘাট, নিম্নাঞ্চলসহ শহরের পাড়া মহল্লার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। প্রবল স্রোত থাকায় দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের কাউগা থেকে পাঁচবাড়ী প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তায় সকাল সাতটা থেকে বড় ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এলাকাবাসী রাস্তার পাশে থাকা গাছ কেটে স্রোতের বেগ কমানোর চেষ্টা করছেন। বন্যায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ‘বাঁধের পানি উপচে পুরো জেলা একাকার। জেলার কয়েক শ পয়েন্ট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দিনাজপুর জেলার পুনর্ভবা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার ও আত্রাই নদের পানি ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে; যা ১৯৬৮ সালের পর এই প্রথম।’

দিনাজপুরে কাহারোলে বন্যার পানিতে ডুবে একই পরিবারের ৩ শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিন বন্যায় আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার বিকালে কাহারোল উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম হতে কলার ভেলায় চড়ে পার্শ্ববর্তী বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামে নিজ বাড়িতে ৩ সন্তান ও প্রতিবেশির ১ সন্তানকে নিয়ে আসছিল আব্দুর রহমানের স্ত্রী সোনাভান বেগম।  এ সময় কলার ভেলা উল্টে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো-বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে চুমকি (১৩), শহিদ আলী (১০), সিয়াদ (৭) ও প্রতিবেশি সাঈদ হোসেনের পুত্র সিহাদ (৭)। কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনসুর আলী সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও গতকাল আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো- দিনাজপুর শহরের দক্ষিণ বালুবাড়ী এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৫), বালুবাড়ী ঢিবিপাড়া এলাকার এনামুল হকের পুত্র মেহেদী হাসান (১৫), সদর উপজেলার মির্জাপুর এলাকার আব্দুল গফফারের পুত্র আবু নাইম (১৩), বিরল উপজেলার মালঝাড় এলাকার বাবলু রায়ের স্ত্রী দিপালী রায় (৩২) এবং সদর উপজেলার দরবারপুর গ্রামের মেহের আলীর পুত্র চাঁন মিয়া (৫৫)।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, দিনাজপুরে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

দিনাজপুর থেকে একতা ও দ্রুতযান ট্রেন চলাচল করতে পারছে না। এখন পার্বতীপুর থেকে ট্রেনগুলো ছাড়ছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।

দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়ে গৃহহীন হয়েছে জেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ।  এর মধ্যে দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের তুঁতবাগান এলাকায় দিনাজপুর শহর রক্ষা বাধের ৫০ মিটার ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর বাধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।  বাঁধ সংস্কারে বিজিবি মোতায়েন করা হলেও তারা ব্যর্থ হয়।  বাধ সংস্কারে ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ৫২ সদস্য বাঁধ সংস্কার ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। দিনাজপুরের অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দিনাজপুর জেলার সাথে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। হিলি স্থল বন্দর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম।  এদিকে বন্যাজনিত কারণে পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে এবং বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নীলফামারী : পানির তোড়ে ভেসে গেছে সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটার এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে সেনানিবাসসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায়। গতকাল সকালে সৈয়দপুর শহরে কোল ঘেষে বয়ে যাওয়া খড়খড়িয়া নদীর বাম তীরের পশ্চিম পাটোয়ারীপাড়া ও বসুনিয়া পাড়া নামক দুটি স্থানে বাঁধে ভেঙ্গে যায়। ফলে সৈয়দপুর সেনানিবাস ছাড়াও শহরের কুন্দল, পাটোয়ারীপাড়া, নয়াবাজার, সুড়কিমিল, কাজীপাড়া, হাতিখানা, নতুন বাবুপাড়া, মিস্ত্রীপাড়া, বাঁশবাড়ি মহল্ল­ায় হু হু করে পানি ঢুকে পড়ে। সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শহর রক্ষা বাঁধের দুইটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গনরোধে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তিস্তা পাড়ে রেডএ্যালার্ট :অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা তিস্তা পাড়ে রেডঅ্যালার্ট জারি করে শনিবার রাত থেকে এলাকাবাসীকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তিস্তা নদীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। যেকোন সময় ফ্লাড বাইপাস ভেঙ্গে দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁও : টাঙ্গন নদীসহ ছোটবড় ১১ টি নদীতে পানি বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামে বন্যার পানির আতংকে রেহেনা পারভীন নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। জেলার ৬৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। অসহায় মানুষগুলো বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে ভুগছে। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেলপথের নয়ন ব্রিজ এলাকায় দুই কিলোমিটার রেলপথ ডুবে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় ট্রেন চলাচল দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

নওগাঁ :  নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, মান্দা, পত্নীতলা, বদলগাছী, ধামইরহাট ও রাণীনগর উপজেলায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৩০ হাজার বিঘা ফসলি জমি। মান্দায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তিন নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মান্দার কশব ইউনিয়নের পাজরভাঙ্গা সমির শাহর বাড়ির কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও দক্ষিণ চকবালু হিন্দুপাড়া নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গেছে।

কুড়িগ্রাম: বন্যার পানিতে পড়ে নিঁখোজ রয়েছে কুড়িগ্রামের ছিনাই ইউনিয়নের কালুয়ারচরের রাশীদা খাতুন (২৫) ও রিফাত (৭) নামে দু্ই শিশু। কাঠালবাড়ী ইউনিয়?নের বাংটুর ঘাট ও ছিনাই ইউনিয়?নের কালুয়ার চর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভে?ঙ্গে পা?নিতে ত?লি?য়ে গে?ছে বিস্তীর্ণ  এলাকা। কু?ড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়?কের অন্তত ৮/১০?টি স্থানে সড়?কের উপর হাঁটু থে?কে কোমর পা?নি প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম-?চিলমারী রেলপথটি ঝুঁ?কিপূর্ণ হওয়ায় রেল যোগা?যোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হ?য়ে?ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী ও সদর উপজেলার ৫৪ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) : পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষের দুর্দশা কাটেনি। তারা  বর্তমানে রয়েছে ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে। আমন ফসলের ক্ষেত, অসংখ্য রাস্তা পানির নিচে। পাকা ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

সিলেট অফিস : সুরমা-কুশিয়ারাসহ সবকটি পয়েন্টের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়েছে সীমান্ত নদী ধলাই, পিয়াইন, বড়গাঙ ও সারীতেও।  পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চার লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা কবলিত গোয়াইনঘাট, কোমপানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সুনামগঞ্জ : উজানের পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় ১১টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, শাল্লা, ধরমপাশাসহ সককটি উপজেলার। সুনামগঞ্জ পৌর শহর পানিতে তলিয়ে গেছে। সদর উপজেলার তেঘরিয়া, নতুনপাড়া ও নবীনগর এলাকার রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

নেত্রকোনা : মগড়া, কংস, সোমেশ্বরী, উব্ধাখালি এবং ধনু নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার আমন বীজতলা।  মগড়া নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেইলি সেতুটির তলদেশ পানি ছুইয়ে ফেলেছে। পূর্বধলার দামপাড়া পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের বেড়িবাঁধটি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের গিরিয়াসা, লেটিরকান্দা, কালিপুর ও জারিয়া ইউনিয়নের জারিয়া ও নাটেরকোনা এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

জয়পুরহাট : প্রায়  ৫শ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে গেছে এবং ৪৫ হেক্টর জমির পটল, শসা, বেগুন ও করলা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দুই শতাধিক গ্রাম পুনরায় বন্যা কবলিত হয়েছে ।

গাইবান্ধা : সুন্দরগঞ্জের তিস্তা, গাইবান্ধা সদরের ব্রহ্মপুত্র, ফুলছড়ি ও সাঘাটায় যমুনা এবং গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদী সংলগ্ন নিম্নাাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চর এলাকায় আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার অন্তঃত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

রংপুর : গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলের প্রায় ৯০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্রোত ও ভাঙ্গনে তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ প্রায় ৩ শ’ ঘরবাড়ি। পানির স্রুতে গংগাচড়া উপজেলায়  মর্ণেয়ায় ২ শিশু ভেসে গেছে।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে সদর উপজেলার কলা গাছের ভেলায় ধরলা নদী পাড়ি দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় কুলাঘাট ইউনিয়নের পূর্ব বরুয়া গ্রামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং পরিবারের ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল বিকেলে বডুয়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের পরিবারের ৪ জন ভেলায় করে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছিল এ সময় ধরলা নদীর প্রবল স্রোতে ভেলাটি ডুবে গেলে তারা নিখোঁজ হন। পরে  নাদিমের (৮) লাশ  উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। বাকি তিনজন নিখোঁজ রয়েছে। তারা হলেন আব্দুল হামিদ, তার স্ত্রী আসমা বেগম, তার ভাই মোজাম উদ্দিন।

এ দিকে পাটগ্রাম উপজেলায় বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে শিমুল হোসেন (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার পশ্চিম জগতবেড় গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে এবং কচুয়ারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

জেলার ৫টি উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় প্রচন্ড বেগে পানি ভাটিতে প্রবেশ করছে। সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাট উনিয়নের ধরলা নদীর তীরবর্তী ৪টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে উপজেলা সদরে রাস্তাঘাট ও অফিস প্রাঙ্গন প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও পার্বতীপুর-বুড়িমারী রেল লাইনের হাতিবান্ধায় রেল লাইন পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়ায় লালমনিরহাট- বুড়িমারি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বুড়িমারি স্থলবন্দরের সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

জামালপুর : জামালপুরে বন্যার পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। যমুনার তীরবর্তী দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। উলিয়া-ইসলামপুর, ইসলামপুর- গুঠাইল ও গুঠাইল-মলমগঞ্জ এবং মেলান্দহ-মাহমুদপুর সড়ক বন্যা কবলিত হয়ে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ধুনট (বগুড়া) : উপজেলায় যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তলিয়ে গেছে নিচু এলাকা।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) : কালিকাবাড়ী গোদারাঘাট সংলগ্ন নিতাই নদীর উত্তর পাড় ভেঙ্গে প্রবল স্রোতে ৭ ইউনিয়নের ৭২ টি গ্রাম ও ৬০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

চাটমোহর (পাবনা ) : চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট ও রোপা আমন ক্ষেত। ফেসে গেছে মাছের পুকুর।

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : উপজেলার বায়েক, কায়েমপুর ও গোপিনাথপুর ইউনিয়নের ৪৮টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।  পুকুরের মাছ, হ্যাচারি, মত্স খামার ও কৃষিজমি ঢলের পানিতে একাকার হয়ে ১৫০কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাগমারা (রাজশাহী) :  উপজেলার  প্রায় একশ হেক্টর জমির রোপা আমন চারা তলিয়ে গেছে।  এছাড়া পটল, মূলা, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) : যমুনায় পানি বৃদ্ধি ফলে উপজেলার সর্বত্র ও পাশ্ববর্তী এলাকায় নিম্নাঞ্চল পুনরায় প্লাবিত হচ্ছে। পদ্মা-যমুনায় সৃষ্ট প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচল দারুন বিঘ্নিত হচ্ছে।

মির্জাপুর(টাঙ্গাইল): বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  বন্যা কবলিত এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। উপজেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠে পানি উঠেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙ্গছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।