বাংলাদেশের লড়াই শুরু

73

রংপুর বার্তা.কম: ৮০ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছে ৭২ রানের। সফরকারীদের হাতে আছে এক উইকেট। বুধবার বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে খেলা হয়েছে ৫৪ ওভার। আরো ১৩ ওভার খেলা হওয়ার কথা থাকলেও আলোর স্বল্পতায় তা হয়নি। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ৯ উইকেটে ৩৭৭।আজও অস্ট্রেলিয়াকে থামাতে লড়াল করছে বাংলাদেশ।

রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে সফরকারীদের দ্বিতীয় দিন রান তুলতে দারুণ সহায়তা করেছিলেন মুশফিক! আজ অবশ্য সেই জায়গা থেকে সরে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একটি পরিসংখ্যান বুঝিয়ে দেবে সেই ধারণা। প্রথম ৭০ ওভারে বাংলাদেশের বোলাররা মেডেন দেয় মাত্র ৩ ওভার। সেখানে ৭৪ থেকে ৭৬তম ওভারে টানা তিন মেডেন। বলাবাহুল্য, ওই সময়ে ঘুরে যায় দিনের খেলার মোড়।ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসকম্বের ১৫২ রানের জুটি ভাঙার জন্য প্রয়োজন ছিল বিশেষ কিছুর। ‘সুপারম্যান’ সাকিব বিশেষ কাজটি করে দেন খুব সহজেই।

৯৯ রানে থাকা ওয়ার্নারকে সেঞ্চুরির স্বাদ দিতে ঝুঁকি নিয়ে রান নিতে চেয়েছিলেন হ্যান্ডসকম্ব। কিন্তু স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো সাকিব ছিলেন নিখুঁত। এক হাতে বল তুলে বোলিং প্রান্তে থ্রো করে উইকেট ভাঙেন সাকিব। বিশাল ডাইভ দিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি ৮২ রান করা হ্যান্ডসকম্ব। ১৮৫ মিনিটের লড়াই শেষ হয় বাজে এক সিদ্ধান্তে।

ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা ডেভিড ওয়ার্নার সঙ্গী হারিয়ে চাপে পড়ে যান। টানা ১৫ বল ডট খেলে শুধু নিজের ওপর চাপ নেননি, দলকেও চাপে ফেলেন। নাসিরের বল কাভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে নিজের সবচেয়ে মন্থরতম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ২০৯ বলে। চিরচরিত স্টাইলে সেঞ্চুরি উদযাপন করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ওয়ার্নার। কিন্তু অপরপ্রান্তে থাকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন না ছন্দে। ‘বার্থ ডে বয়’ মুস্তাফিজের বলে ১২ রানে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু বল তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন মিরাজ। সেই মিরাজই তাকে ৩৮ রানে আউট করে সাজঘরে পাঠান।

এর আগে মুস্তাফিজ জোড়া আঘাত করে সফরকারী শিবিরে। আইপিএলের দলের সতীর্থ ডেভিড ওয়ার্নারকে পরাস্ত করেন দারুণ বাউন্সারে। তার বলে পুল করতে গিয়ে লেগ গালিতে ইমরুল কায়েসকে ক্যাচ দেন। ৩৬২ মিনিটের লড়াই শেষে ‘বন্ধুর’ বলে আউট হয়েও হাসিমুখে মাঠ ছাড়েন ওয়ার্নার। এরপর মুস্তাফিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ম্যাথু ওয়েড। তার কাটারে এলবিডব্লিউ হন ৮ রান করা অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

অফ স্পিনার মিরাজের ম্যাক্সওয়েলের উইকেট নেওয়ার আগে আউট করেন হিল্টন কার্টরাইটকে। ১৮ রানে কার্টরাইট ক্যাচ দেন স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে। চা বিরতির পর মিরাজের তৃতীয় শিকার প্যাট কামিন্স। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে থেকে বল ঘুরিয়ে কামিন্সের প্যাডে আঘাত করান মেহেদী। কোনো শট না খেলায় এলবিডাব্লিউ হন কামিন্স (৪)। সাকিবের একমাত্র উইকেট অ্যাশটন অ্যাগার। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন দিনের খেলা শেষ হওয়ার এক ওভার আগে।

আগের টেস্টে দুই ইনিংসে দশ উইকেট পাওয়া সাকিব এবার প্রথম ২৯ ওভারে ৭৮ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। ৩০তম ওভারে উইকেটের খাতা খোলার সুযোগ ছিল, কিন্তু স্লিপে অ্যাগারের লোপ্পা ক্যাচ ছাড়েন সৌম্য। বিমর্ষ সাকিব শেষ বলে ভরসা রাখেননি ফিল্ডারের ওপর। তাইতো অ্যাগারকে বোল্ড করে সিরিজে নিজের ১১তম উইকেটের স্বাদ নেন।