রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকে করতে হবে-ফিলিপো গ্রান্ডি

57

রংপুর বার্তা.কম:জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপো গ্রান্ডি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উত্পত্তি মিয়ানমারে এবং সমাধানও মিয়ানমারকে করতে হবে। সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে হবে।

যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। বাংলাদেশ সফররত ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি গত সোমবার গুলশানের একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের উচিত কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া।

ফিলিপো গ্রান্ডি ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার পর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ নাগরিকত্ব, এর সমাধান মিয়ানমারকে করতে হবে। সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে তাদের দেশে ফিরতে পারে, সে ব্যবস্থাও মিয়ানমারকে করতে হবে। জোর করে তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ হবে না। তিনি বলেন,  রাখাইনে মানবিক সাহায্যদাতা সংস্থাগুলো যাতে কাজ শুরু করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা এখন জরুরি।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত তো নিতে হবে মিয়ানমার সরকারকে। অন্যথায় নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ লাগবে, যা একটি ‘জটিল বিষয়’। মিয়ানমারের দায়িত্ব হচ্ছে, তার নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যদি এই সুরক্ষা দিতে হয়, তাহলে সেটি হবে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। মিয়ানমারে এখন কত রোহিঙ্গা আছে, তা জানেন না উল্লেখ করে ফিলিপো বলেন, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা রাখাইনে কাজ করছে, কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে  তাদের কার্যক্রম খুবই সীমিত।

বাংলাদেশের প্রশংসা করে গ্রান্ডি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যখন শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। কক্সবাজার এবং বান্দরবানের যে সব জায়গায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে সেখানকার স্থানীয় বাংলাদেশিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেকোনো ত্রাণ কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কল্যাণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু রোহিঙ্গাদের কথা ভাবলে চলবে না। স্থানীয়দের নিরাপত্তা, তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা এবং পরিবেশের বিষয়টি সমস্ত পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া দরকার।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চার লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। আমি সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের ওপরে শারীরিক ও যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের অবস্থান সম্পর্কে ফিলিপ গ্রান্ডি বলেন, সেখানে রোহিঙ্গাদের থাকার জায়গা, পানি, স্যানিটেশন ও খাদ্যের প্রয়োজন। ত্রাণ সাহায্যে কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন এমন প্রশ্নে ইউএনএইচসিআর প্রধান বলেন, ৭৪ মিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ প্রয়োজন। দ্রুত মানবিক সহায়তা দিতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

এদিকে গত সোমবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সাথে মতবিনিময় করেন ফিলিপো গ্রান্ডি। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য অবকাঠামোসহ সার্বিক সহযোগিতা দেবে ইউএনএইচসিআর। ইতিমধ্যে কুতুপালং ক্যাম্পের ভিতরের ১৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য ইউএনএইচসিআর ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।