রংপুর বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের চলছে দৌড়ঝাঁপ

104

রংপুর বার্তা.কম:নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নগরজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চলছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ।

তফসিল অনুযায়ী রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২৫ ও ২৬ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৪ ডিসেম্বর।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। তাই প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনাও অনেক বেশি। কারা পাবেন মনোনয়ন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এরই মধ্যে মেয়র পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি।

রংপুর মহানগরে জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা পেয়েছেন লাঙ্গল প্রতীক। অন্য দলগুলো এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

এদিকে নির্বাচনের দেড় মাস বাকি থাকলেও মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন নিজেকে। পরিকল্পিত উন্নয়নের যানজটমুক্ত আধুনিক নগরী গড়তে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও রংপুর সিটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে।

দলীয় সূত্র জানায়, মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রায় এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের চৌধুরী খালেকুজ্জামান, সাফিউর রহমান সফি, তুষার কান্তি মণ্ডল, রেজাউল ইসলাম মিলন, আতাউর জামান বাবু, রাশেক রহমান ও বর্তমান মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সহসভাপতি কাওছার জামান বাবলা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম ও জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু। প্রচার চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, আবদুর রউফ মানিক ও হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, জাসদের মাসুদ-নবী-মুন্না, ওয়ার্কার্স পার্টির মাজিরুল ইসলাম লিটন এবং বাসদের আবদুল কুদ্দুস।

এবার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বর্তমান মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। তিনি বলেন, তার সময়েই রংপুর মহানগরে ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের টেন্ডার হয়েছে এবং সেগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে। এসব কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে রংপুর। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলে জানান।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামানও প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রংপুরে যত উন্নয়ন হয়েছে, অন্য কোনো সরকারের সময়ে তা হয়নি। দল মনোনয়ন দিলে তিনি রংপুরকে উন্নয়নের মডেলে পরিণত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি প্রতিদিনই কোনো না কোনো পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করছেন। ২০১২ সালে রংপুর সিটির প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি। দল মনোনয়ন দিলে এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে সিটি এলাকাকে যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন এবং শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল সিটির ৩৩টি ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে নিজের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের জন্য সরকারদলীয় মেয়র প্রয়োজন। তাই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটারদের কাছে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলনও দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে রংপুরকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং যানজটমুক্ত নগরী গড়ে তুলবেন। দল তাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিকও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে তিনি জানান। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এইচএন আশিকুর রহমান এমপির ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও জেলা সদস্য রাসেক রহমানও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গত শনিবার। তার পক্ষে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং মসিউর রহমান রাঙ্গাও রংপুরে এসে প্রচার চালান। প্রথম সিটি নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। মোস্তফা বলেন, রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ। নির্বাচিত হলে রংপুরের উন্নয়নে একটি মডেল সিটি করপোরেশন গড়তে যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া না হলেও এরশাদ পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন তিনি।

মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কাওছার জামান বাবলা প্রথম সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, এবার তার অবস্থান অনেক ভালো। অনেক আগে থেকেই প্রচার শুরু করেছেন।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজুও মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিয়ে ভোট চাইছেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাজিরুল ইসলাম গত সিটি নির্বাচনে দলের হয়ে অংশ নিয়ে হেরে যান। এবারও তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান। তিনি বলেন, এবার আগের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ভোটের জন্য কাজ করছেন।

জাসদ (আম্বিয়া) রংপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ-নবী-মুন্না বলেন, দলের হয়ে নির্বাচন করবেন বলে আশা করছেন। রংপুরের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাসদ রংপুর জেলা সমন্বয়ক আবদুল কুদ্দুসও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করার কথা জানান তিনি।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, সব দলের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার জন্য তারা সম্ভাব্য সব কিছুই করছেন। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে।

সুত্র:সমকাল