নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার দায়িত্ব প্রশাসনের-সিইসি

52

রংপুর বার্তা.কম:প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর।

তিনি আরো বলেন,নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেন তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক সভায় সিইসি এসব কথা বলেন।

সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, একটি বিষয়ে সতর্ক করে বলতে চাই, আপনারা যেমন সাহায্য-সহযোগিতা করেন। আবার যদি কেউ ব্যত্যয় ঘটান, যদি তার দায়িত্বপালন না করেন, গাফিলতি করেন ইচ্ছাকৃতভাবে, তাহলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের হাতে যে আইন আছে, সরকার যে আইন আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে সেই আইনে প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্ধারিত আছে। সেই নির্ধারিত দায়িত্বের ব্যত্যয় যদি কেউ করে তাহলে আমরা আইনের মাধ্যমেই তার ব্যবস্থা নেব। কমিশন এ ব্যাপারে এতটুকু আপোশ করবে না।

সিইসি বলেন,নির্বাচন কর্মকর্তারা আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। এর বাইরে কোনো কিছু নেই। একজন ভোটার ভোট দিতে যেতে পারবেন। কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দিয়ে তিনি আবার নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এর মধ্যে তিনি কোথাও বাধার সম্মুখীন হবেন না। অবাধে যেতে পারবেন কেউ বাধা দেবে না।

তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তাতে আমরা খুব খুশি। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। নির্বাচনে আপনাদের যে ভূমিকা তার সফল বাস্তবায়ন হবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি। নির্বাচন অবাধ গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ হবে।

সিইসি বলেন, স্বচ্ছতা বলতে আমাদের কর্মকাণ্ডগুলো পরিষ্কার করা, দৃশ্যমান করা। আমাদের কোনো কাজ গোপন নয়। গোপন শুধু গোপন ভোটকক্ষে গিয়ে ভোটারদের ভোট দেওয়া। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কোনো বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যাবে। ভোট দিয়ে তারা নিরাপদে বাসায় যাবে, এটা নিশ্চিত করতে হবে।  সব প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে, যোগ করেন সিইসি।

সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পর্কে নুরুল হুদা বলেন, কেন্দ্রে কোনো রকম ঝামেলা হবে না। কোনো রকমের হাঙ্গামা হবে না। ভোট দিতে কাউকে বাধা প্রদান করা হবে না এবং সেখানে যে ভোটাররা যাবেন তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন, এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।

সিইসি আরো বলেন, দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে আমাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যখন আমরা কোনো দায়িত্বপালন করি তখন আর আমাদের কোনো পক্ষ থাকে না।

সিইসি আরো বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে। তার সবগুলোই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সু্ষ্ঠু হয়েছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতেও যেসব নির্বাচন হবে, সেগুলো মাধ্যমে আমাদের অবস্থান আরো দৃঢ় ও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।