ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

43

রংপুরবার্তা:ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের এটা খেয়াল রাখতে হবে যার যার নিজের বাড়িতে গেলে আশপাশে কেউ যদি নিরক্ষর থাকে তাহলে তাকে অক্ষরজ্ঞান দিতে হবে। সেইসঙ্গে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীদের কাছে এটাই থাকবে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার অনুরোধ।

কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য করে খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন পদ্মা সেতু নির্মাণের কোনো ক্ষমতা তার নেই বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বিকালে গণভবনে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে যান।

শেখ হাসিনা বলেন,পদ্মা সেতু যখন আমরা নির্মাণ করছি সেটাও নাকি জোড়াতালি দিয়ে।

বিএনপি নেত্রীর ওই বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, হ্যাঁ- একদিকে ঠিক, সেতু তৈরির জন্য প্রথমে এক একটা পার্ট তৈরি করে এবং সেটা পরে বসায়। যার এইটুকু জ্ঞান নেই একটা জিনিস তৈরি করতে হলে কীভাবে কোন পদ্ধতিতে করা হয়, তিনি কী করে এটি বুঝবেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন,সরকারে এসেছি নিজের ভাগ্য গড়তে নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তে। আজকে যখন আমরা নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু করি তখন আপনারা শুনেছেন যে খালেদা জিয়া বক্তৃতা দিচ্ছেন-ওই পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে, কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না।’

 

একদিন আগে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বক্তৃতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে, কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না।’

গণভবনের সবুজ ঘাসের লনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ব্ক্তব্যে বলেন, দিন যত এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে ততই প্রগতির পথে যেতে হবে। প্রগতির পথে না গেলে, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে আমরা দেশকে সেভাবে উন্নত করতে পারব না।

বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, যারা দেশের ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু কোনো কল্যাণ করতে পারে না, তারা দেশ ও জাতিকে কী বা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের ঘুষ-দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা উদ্ধারের বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যখন বিশ্বব্যাংক আমাদের ওপর দোষারোপ করল- আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম। কারণ চ্যালেঞ্জ দেয়ার মতো সৎ সাহস ছিল বলেই দিতে পেরেছি। আর ওই একটি ঘটনায় অর্থাৎ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যখন নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু তৈরির উদ্যোগ নিলাম তখন আন্তর্জাতিক বিশ্ব বুঝে নিয়েছে এই বাংলাদেশ বিজয়ী জাতি। আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করেছি। কারও কাছে মাথানত করে আমরা চলি না। আমরা মাথা উঁচু করেই চলব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর পর থেকে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ একরকম নিষিদ্ধ ছিল। এই ভাষণ বাজাতে যেয়ে আমার ছাত্রলীগের নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভিপি চুন্নুকে জীবন দিতে হয়েছিল। এ রকম আমাদের আরও বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে। ওই শহীদ মিনারে সোহরাবকে হত্যা করেছে। আমাদের নেতা (বর্তমান ত্রাণমন্ত্রী) মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বুকে চুরি মেরেছিল।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপি-জামায়াত) আসলে কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে মেনে নিতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস রাখত তাহলে কখনও ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করত না। আর আজকে সেই ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে আড়াই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব প্রামাণ্য দলিলে স্থান পাওয়ায় এই একটি মাত্র ভাষণ আজকে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। অথচ এই ভাষণকেই প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শুনতে দেয়া হয়নি। তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা বিশ্বব্যাপী যে স্বীকৃতি পেয়েছি তাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আমি বলব- মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।

তিনি বলেন, সব সময় মনে রাখতে হবে যে, দেশকে আগামীতে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া কখনও নিজেকেও গড়ে তোলা যাবে না। দেশকেও এগিয়ে নেয়া যাবে না। কাজেই ছাত্রলীগের যে মূলনীতি (শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি) সেই নীতি ধরেই এগুতে হবে। শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে শান্তির পথে প্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।