নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান ও আটকৃতদের মুক্তির আহ্বান-এইচআরডব্লিউ

52

রংপুর বার্তা:বিভিন্ন সময় নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায়, কি অবস্থায় আছে তা তদন্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।একই সঙ্গে জানানো হয়েছে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা এক চিঠিতে শনিবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টিগেট ফেট অব ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ শীর্ষক এক চিঠিতে সংস্থাটি এ আহ্বান জানায়।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশ করা চিঠিতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক অপহরণ ও গুম বাংলাদেশে উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কিছু আগে থেকে এমন গুমের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালেই কমপক্ষে ৮০ জনকে গোপনে আটকে রাখা ও জোরপূর্বক গুম করে ফেলার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাতজনকে পরে তথাকথিত ‘গানফাইট’ অথবা ‘ক্রসফায়ারের’ মতো বিচার-বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কমপক্ষে ১৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ভয়াবহ এক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোপনে আটকে রাখা ও গুম। বাংলাদেশিরা মনে করেন যে কোনো রকম সমালোচনা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে প্রশাসনের লোকদের নজরে পড়তে পারেন তারা। ব্রাড এডামস আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার তৃতীয় মেয়াদের শেষ প্রান্তের কাছাকাছি।

তাই যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন নিখোঁজের বিষয়ে উত্তর খুঁজছে তাদেরকে সহায়তা করার জন্য তার উচিত ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা, যাতে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করা এ সমস্যার সমাধান করা যায়।’ চিঠিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লিখেছে, ‘যেসব মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন তার কিছু কিছু দৃশ্যত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীদলীয় বেশকিছু সদস্য ও তাদের আÍীয়স্বজন এখনও নিখোঁজ। এর আগে সরকার অনেকবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

২০১৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউ’তে এ ইস্যুটি তুলে ধরা হয়েছিল।কিন্তু তারপরও নতুন নতুন নিখোঁজ বা গুমের ঘটনা অব্যাহত আছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, গুম নিয়ে তদন্তের সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করে বলেছেন, এসবের সঙ্গে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। অনেক ক্ষেত্রে ওইসব ব্যক্তিকে আটক করার সময় যেখানে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা বলেছেন, তারা আইন প্রশাসনের লোক। এর বাইরে পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদেরকে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা শাখা, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে।

ব্রাড এডামস বলেন, ‘নিখোঁজ বা গুমের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের উচিত জাতিসংঘের বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটিকে আমন্ত্রণ জানানো, যাতে তারা তাদের নিজেদের মতো করে তদন্ত করতে পারে। বন্দিশিবিরগুলোয় অবাধ ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার দিতে হবে এসব টিমকে। সব ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করতে দিতে হবে।’