বেরোবিতে ভর্তি জালিয়াতির তদন্তর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

46

রংপুর বার্তা.কম: রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি জালিয়াতির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি এবং প্রক্টরকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলা বিভাগের গ্যালারি রুমে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়।সংগঠনের সহসভাপতি বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নীল দলের সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবু সালেহ মো: ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ)।

সংবাদ সম্মেলনে নীলদলের পক্ষ থেকে তোলা পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে- নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী উপাচার্যের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান এবং প্রয়োজনে রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য ডিনকে দায়িত্ব প্রদান, ভর্তি জালিয়াতি মামলার বাদি অভিযুক্তের পক্ষে মানববন্ধন করায় তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া, তথ্যানুসন্ধান কমিটি বাতিল করে তদন্ত কমিটি গঠন করা, দুই শিক্ষককে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেয়ার যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে একজন অধ্যাপককে ডিন হিসেবে নিয়োগ দেয়া।

লিখিত বক্তব্যের শুরুতে উপাচার্যের অনুপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। উপাচার্য এই কমিটির আহবায়ক থাকেন।

এবছর উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্বে থাকায় এই দুটি অনুষদের সমন্বয়ক হন।

রীতি না থাকলেও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো: নজরুল ইসলামকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সহসমন্বয়ক ও ড. আতিউর রহমানকে জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের সহসমন্বয়কের দায়িত্ব প্রদান করেন উপাচার্য।

নিয়ম অনুযায়ী এই দুই অনুষদের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, ছাপানো, মুদ্রণ, ওএমআর রিডিংসহ সব কাজে উপাচার্যের নিজের উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও তিনি এসব কাজে ছিলেন না। গত ১৭ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রথম সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এ দিনেও উপাচার্য ক্যাম্পাসে ছিলেন না।

ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার সময় কয়েকজন ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়ে। এর মধ্যে একজন লালমনিরহাটের সাপটানা স্টেডিয়াম পাড়ার শামস বিন শাহরিয়ার। সে ‘বি’ ইউনিটের ৪র্থ শিফটের শিক্ষার্থী।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াতির অনেকগুলো বিষয় উঠে আসে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই সে পাস করেছে এবং মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসেছে মর্মে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। সেই ঘটনায় প্রক্টর বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। কিন্তু বাদি নিজেই আবার অভিযুক্তদের পক্ষে মানববন্ধন করেছেন।

গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, উপাচার্য একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী প্রক্টর মো: শামসুজ্জামানকে রাখা হয়েছে। যার বিরুদ্ধে দুজন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ভর্তি জালিয়াতির মতো একটি বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য দলনিরপেক্ষ জ্যেষ্ঠ/সিন্ডিকেট সদস্যদের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিটি করা প্রয়োজন ছিল। যা না করে দায় এড়ানোর জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুই শিক্ষককে ভর্তি বোর্ড থেকে বাদ দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনুষদের কোন সভা ছাড়াই ২ জানুয়ারির সাক্ষাতকার বোর্ড থেকে লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও একই বিভাগের প্রভাষক সামান্থা তামরিনকে বাদ দেয়া হয়েছে। কি কারণে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাদেরকে ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হলো তা জানানো হয়নি।

ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়া করা হয়েছে উল্লেখ করে ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দ্বিতীয় দফায় ২ জানুয়ারি সাক্ষাৎকার শেষে রাত ১০টায় বিষয় বরাদ্দকরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ভর্তি হওয়ার জন্য বলা হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পক্ষে যেমন ৯-১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা কঠিন ছিল, তেমনি অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক রাতেই ভর্তি বাতিল করে বেরোবিতে ভর্তি হওয়া অসম্ভব ছিল।

ভর্তি কার্যক্রমে উপাচার্যের অনুপস্থিতির কারণে এত অব্যবস্থাপনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,নীলদলের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল আজীম ও সদস্য আসাদ মন্ডল। দলের সভাপতি ড. শফিক আশরাফ সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে থাকায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হননি বলে জানান সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ।