তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে মমতার বিকল্প প্রস্তাব

45

রংপুর বার্তা.কম:তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুতে বরাবরের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার অজুহাত দাঁড় করিয়েছে ভারত। কেন্দ্রীয় সরকার এবার নাকি তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে মমতার দেয়া বিকল্প প্রস্তাব নিয়েও ভাবছেন।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এমন তথ্য জানান।

সুষমা স্বরাজ বলেন, তিস্তা চুক্তি শুধু ভারত আর বাংলাদেশ- এই দুই সরকারের বিষয় নয়। পশ্চিমবঙ্গও এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ। এজন্যই আমরা বারবার মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনার কথা বলছি।গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় মমতা ব্যানার্জি যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটাকে কাজে লাগানো যায় কিনা তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দেয়া ওই প্রস্তাব ছিল- তিস্তা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের আরও দুই-তিনটি নদী (যেমন- মানসাই, ধরলা, জলঢাকা বা শিলতোর্সা) থেকে একই পরিমাণ পানি বাংলাদেশে পাঠানো। তবে তার এই প্রস্তাবকে অপ্রাসঙ্গিক এবং অবাস্তব আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞরা।

সুষমা স্বরাজ বলেন, ওই নদীগুলোর পানি ভাগ হলে তাতে তারা পানি পাবে, তিস্তাও বাঁচবে। কেন্দ্রীয় সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকার মিলে সেই প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে। যদিও আমরা সেই রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ভারতের হাতে সময় আছে সাত মাস। কিন্তু বরাবরের মতো প্রতিশ্রুতি পূরণে ‘মমতা কার্ড’ ব্যবহার করছে ভারত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ  বলেন, আমাদের সরকারের মেয়াদের পুরো এক বছর এখনো বাকি। আমাদের আগেই ফেল করিয়ে দিচ্ছেন কেন? এক বছর বাকি থাকতেই আমাদের বিফল ঘোষণা না করে বরং একটু ধৈর্য ধরুন। আমরা কিন্তু এটার পেছনে লেগে আছি।