প্রধানমন্ত্রীর ভারত থেকে আমাদের জন্য কী এনেছেন- এরশাদ

31

রংপুর বার্তা.কম:জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চাই ভারত সফরে গিয়ে আমাদের জন্য কী এনেছেন।

শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় ইসলামী মহাজোটের ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে আমাদের জন্য কী এনেছেন? আমরা জানি না, জানতে চাই। তিস্তার কোনো সমাধান কি করতে পেরেছেন? আশা করি প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রাখবেন।

দেশে চলমান মাদক অভিযানে ক্রসফায়ারের ঘটনায় সরকারের কড়া সমালোচনা করেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘যেভাবে বন্দুকযুদ্ধে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, দেশে কি যুদ্ধ শুরু হয়েছে? মাদক নির্মূলের নামে যাদের হত্যা করছেন তারা এদেশের নাগরিক। মানুষ মারার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? দেশে কি আইন-আদালত নেই।

‘মাদক নির্মুলের নামে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা কি এদেশে জন্ম নেয় নাই? তাদের কি বিচার পাওয়ার অধিকার নেই। এটা অন্যায়। মাদক ব্যবসায়ীদের বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিন’ বলেন এরশাদ।

মুসলমানদের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে সাবেক এ সেনাপ্রধান বলেন, ইসলামি রাষ্ট্রগুলো আজ বিচ্ছিন্ন। কারো সাথে কারো মিল নেই। ফিলিস্তিনিসহ অনেক মুসলিম রাষ্ট্র আজ নিগৃহীত। তাদের পক্ষে বলার কেউ নেই। মুসলমান রাষ্ট্রগুলো নীরব। ফিলিস্তিনিরা নিজ দেশেই আজ ইসরাইলিদের দ্বারা হত্যার শিকার হচ্ছে, বিশ্ব বিবেক নীরব।

তিনি বলেন, আমাদের দেশেও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ নই। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে এদেশে কেউ ইসলাম বিনষ্ট করার সাহস পাবে না। তাই আসুন, সকল ইসলামি দল একত্র হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেই। যাতে করে আমরা ইসলামের সেবা করতে পারি।

এরশাদ বলেন, রমজান শান্তি ও সংযমের মাস। কিন্তু আমরা কেউ শান্তি ও স্বস্তিতে নেই। আগামীকাল কে বন্দুক যুদ্ধের শিকার হবো আমরা কেউ জানি না। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও তা আপনারা পারেননি। তিনি দেশে শান্তি ফেরাতে লাঙলে ভোট দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান।

ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবু নাসের এয়াহেদ ফারুকের সভাপতিত্বে মাহফিলে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভরায়, সরদার শাহজাহান, ইসহাক ভুইয়া, জোটনেতা মীর আবু তৈয়ব মো. রেজাউল করিম, মাওলানা আলফাত চৌধুরী, আবুল হাসনাত প্রমুখ।