পলাশবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১৬

39

রংপুর বার্তা.কম:গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নৈশকোচ উল্টে ১৬ জন নিহত হয়েছে।এ ছাড়াও গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।নিহতের পরিচয় সনাক্ত সাপেক্ষ স্বজনদের ১৪ জনের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার ভোরে পলাশবাড়ী বাঁশকাটা (গরুরহাট) নামক স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।এদিকে যাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতার নামে স্থানীয়রা যাত্রীদের ব্যাগ-ল্যাগেজে থাকা টাকা-পয়সা,মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়েছে।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৬ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধিকাংশরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা যায়,ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আলম এন্টারপ্রাইজ নামক(ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৪২২) যাত্রীবাহী দ্রুতগামী অতিরিক্ত যাত্রীবাহী কোচটি পলাশবাড়ী সদরের উত্তরাংশে ব্র্যাক অফিসের উত্তর পাশ্বে বাঁশকাটা (গরুরহাট) নামক স্থানে উল্টে পড়ে।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টীম ভোর ৫ টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স,হাইওয়ে ও থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা স্থানীয়দের সার্বিক সহায়তায় উদ্ধার চালান।

ঘটনাস্থল থেকে নিহত ৭ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার এবং গুরুতর আহত ৪০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎ- সার জন্য পলাশবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল,পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া,হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফ হোসেন,থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম, উপজেলা ত্রান ও পুনর্বাসন অফিসার(পিআইও) শাহীনুর আলম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সাব-ইনচার্জ আব্দুল হামিদ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।তিনি মরদেহ দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন।

নিহত ১৬ জন হলেন,রংপুর গঙ্গাচরা উপজেলার জয়দেবপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে এমদাদ আলী(৩৫),গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় গোপালপুর গ্রামের মৃত কজিমুদ্দিনের ছেলে ইউনুস আলী(৫৪),নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের নীলখানের ছেলে মিনারুল খান(২০),কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা সদরের হাসপাতাল মোড়ের আব্দুল মান্নানের ছেলে মাসুদ রানা(৪৫),কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর (মিরপুর) উপজেলার হোসেনাবাদ গ্রামের মৃত বাহার প্রামাণিকের ছেলে আব্দুর রশিদ(৬৫),পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার গোমোস্তাপুর গ্রামের মো.আতাউর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম(২৩),টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিন্নাফোর গ্রামের আব্দুল জোব্বারের ছেলে রুবেল হোসেন(২৬)একই জেলার আলোবাদিয়া গ্রামের জোরহান আলীর ছেলে শাহজাহান আলী (৪৭), দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে আখতারুল(৩৫), ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেহনমটরাহাট গ্রামের মৃত আব্দুস সোবাহানের ছেলে আব্দুর রহিম(২৯) একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক(২৪), একই জেলার হলড়া গ্রামের আব্দুস শুকুরের ছেলে ইসমাইল হোসেন রুবেল (২৭),পারপূজা গ্রামের ফজির উদ্দিনের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫) ও হরিপুর উপজেলার অজীন চন্দ্রের ছেলে বিশ্বনাথ(৩৫)।

আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন কুষ্টিয়া জেলা সদরের সুমন (৩৫),মঞ্জু (৩৫), ঠাকুরগাঁওয়ের নূর আলম (৩৫),মমতা বেগম(৩৫), নীলফামারীর হাফিজুর রহমান (৪০),সুরেশ (৫০),চয়ন (৮),সিরাজগঞ্জের বাদশাহ (৩৫),টাঙ্গাইলের আবু সাঈদ (৩৫),তেঁতুলিয়ার আশরাফুল(৩৫), দিনাজপুরের নাঈম ইসলাম(৩৫) ও যশোরের আলী হোসেন(৩৫)। বাকি আহতদের নাম জানা যায়নি।

নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।