রংপুর ডায়াগোনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতির ধর্মঘট শুরু

148

রংপুর বার্তা.কম:রংপুরে সেন্ট্রার ক্লিনিকে আল সিয়াম (৬) নামের এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগে অধ্যাপক ডা:মো.আব্দুল হাই ও ক্লিনিক কর্মচারীকে গ্রেফতার প্রতিবাদে চিকিৎসক, ডায়াগোনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু।

রোববার থেকে রংপুর ডায়াগোনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতি ধর্মঘট শুরু করেছে।নগরীতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, শনিবার নগরীর ধাপ মেডিকেল মোড়ে বেসরকারি সেন্ট্রাল ক্লিনিক নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিকাল ৫টায় শিশু আল সিয়াম এর টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় ভুল অপারেশনে মারা যায় শিশু সিয়াম।

সিয়াম গাইবান্ধা জেলার গোয়ালী গ্রামের রেজ্জাকুল মিয়ার ছেলে।

রেজ্জাকুল বলেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আমার স্ত্রী লাকী বেগম ও ছেলের গলার টনসিল নিরাময়ের জন্য ক্লিনিকটির নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল হাইয়ের কাছে আসি। ২০ হাজার টাকায় অপারেশনের চুক্তিতে দুপুর ২টার দিকে অপারেশন করার জন্য সিয়ামকে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়। এক পর্যায়ে সে মারা যায়।

খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতা এবং স্বজনরা ক্লিনিক ভাংচুর করে সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে এবং নিহত শিশুটির মাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা রেজ্জাকুল মিয়া বাদী হয়ে শনিবার রাতে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ রাতে চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক,কান ও গলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক চিকিৎসক আবদুল হাই ও ক্লিনিক কর্মচারী সুশান্ত দেবনাথকে গ্রেফতার করে।

থানার মধ্যে চিকিৎসক আবদুল হাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলায় অধ্যাপক চিকিৎসক আবদুল হাই ও কর্মচারী সুশান্ত দেবনাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, সুশান্ত দেবনাথকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক আবদুল হাই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গ্রেফতার অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

শিশুটির লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।