আজ নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস

46

রংপুর বার্তা.কম:আজ নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ ৬ষ্ঠ প্রয়াণ দিবস। কথার জাদুকর,তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ তার পাঠক তিনি হুমায়ূন আহমেদ।
তিনি গত ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ।

তিনি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। লেখায় বহুমুখী প্রতিভার যে সৌরভ ছড়িয়ে গেছেন, তা আজো অম্লান।

হুমায়ূন আহমেদ যে হারিয়ে যাননি তা যে কোনো বইমেলায় গেলে আজো বোঝা যায়। পাঠকের হৃদয়ে তিনি অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকবেন। তার বইয়ের ভেতর দিয়ে, সৃষ্টির ভেতর দিয়ে তিনি সবসময় বেঁচে থাকবেন।

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আজ কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে নুহাশপল্লীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ ভোরে স্যারের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও সন্তান নুহাশ, নিষাদ, নিনিত নুহাশ পল্লীতে গেছেন।

ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। নুহাশপল্লীতে কোরআন খানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। নুহাশপল্লীর আশপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র, পরিবারের সদস্য এবং হুমায়ুন আহমেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন লেখকসহ প্রায় ৬শ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ প্রতিভার বিস্তার ঘটলেওতার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। দেশে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়, যারা তার অন্তত একটি নাটক দেখেননি কিংবা তার কোনো বই পড়েননি। প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই কিনতে ভক্ত-অনুরাগীদের ঢল নামে।

হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই চলে যান লাইফ সাপোর্টে। সে অবস্থাতেই ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রিয় লেখকের মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলে লাখো মানুষের অশ্রু-পুষ্পতে সিক্ত হন তিনি। তাকে সমাহিত করা হয় তারই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়। সেখানেই শায়িত হয়ে আছেন হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে। ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা ছিলেন গৃহিণী।তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোটভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।