বিদ্যুৎ বাড়ানোর অংশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-প্রধানমন্ত্রী

71

রংপুর বার্তা.কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প’র প্রথম চুল্লির প্রথম কংক্রিট ঢালাই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে আমাদের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের কমপক্ষে শতকরা ১০ ভাগ আসবে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে।’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি নির্মাণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন এবং আন্তর্জাতিক মান অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সর্বশেষ জেনারেশন থ্রি-প্লাস প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর দিয়ে তৈরি হচ্ছে এ কেন্দ্র। পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা আছে এ রি-অ্যাক্টরে। জনগণের জন্য যাতে ঝুঁকির সৃষ্টি না হয়, সেই বিষয়ে গ্রহণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ এবং সুরক্ষিত প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল জাতির পিতার স্বপ্নের প্রকল্প। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়া

এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে রাশিয়া এবং সেই দেশের জনগণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তখন লোডশেডিং হতো।

আমরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ হিসেবে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করি। তার ফলে আজ দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। কোনো লোডশেডিং নেই। ৯০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন এখনো পৌঁছেনি, সেখানে হোম সোলার সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সারা দেশে বর্তমানে ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম আছে। টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জ্বালানি নীতিতে জীবাষ্ম জ্বালানির পাশাপাশি

বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তেল, গ্যাস, বা কয়লার পাশাপাশি পারমাণবিক, সৌর ও বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভারত ও রাশান ফেডারেশনে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শুধু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য আমরা নিজস্ব জনবল তৈরি করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত মে মাসে মহাকাশে আমরা আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি। রাজধানীতে মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজের প্রায় ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাশান ফেডারেশনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মি. ইউরি ইভানোভিচ বোরিসভ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আইএইএ’র পরিচালক মি. দোহী হান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।