রংপুরে পিপি ও সাংবাদিক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল

44

রংপুর বার্তা;রংপুরে বহুল আলোচিত জেলা জজ আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনা হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

একই সঙ্গে রংপুরের দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

সোমবার রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

মিজানুর রহমান জানান, নিহত বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও তাঁর কথিত প্রেমিক কামরুল ইসলামকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই স্কুলছাত্রকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ মার্চ অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নগরীর বাবুপাড়ার বাসা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পাঁচদিন পর র‍্যাব ১৩-এর সদস্যরা রথীশ চন্দ্রের গলিত লাশ উদ্ধার করে। স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক পরকীয়ার কারণে প্রেমিক কামরুলের সহায়তায় নিজ বাসায় স্বামী রথীশকে হত্যা করে লাশ গুম করেছিলেন এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অাল আলামিনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচদিন নিখোঁজ থাকার পর গত ৩ এপ্রিল রাতে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক রথীশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবুসোনার লাশ উদ্ধার করেন র‍্যাব-১৩ সদস্যরা। এর আগে রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ভৌমিককে আটক করে র‍্যাব। স্নিগ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি পরকীয়ার কারণে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

এরপর স্নিগ্ধার দেওয়া তথ্যানুযায়ী র‍্যাব উদ্ধার অভিযান চালায়। রাত ১১টার দিকে রথীশের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে তাজহাট মোল্লাপাড়া জামে মসজিদের কাছে স্নিগ্ধার প্রেমিক কামরুল ইসলামের ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ির একটি ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করেন র‍্যাব সদস্যরা। পরে রথীশের ভাই সুশান্ত কুমার ভৌমিক গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয় দুই মাস আগে। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করেন স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার ভৌমিক ও তাঁর প্রেমিক কামরুল ইসলাম। দুজনই রংপুরের তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

এ দিকে রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মশিউর রহমান উৎস ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলার (অভিযোগপত্র) চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ার আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর মাদক ব্যবসায়ী জহিরন আক্তার জুই ওরফে গেদী এবং তার সহযোগী রুপম, শুভ, পেশাদার খুনি রুবেল হেমব্রা, রিপন, লেলিন, রোকসানা ও রুবেলকে অভিযুক্ত করে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, মাদক ব্যবসায়ী গেদীর সঙ্গে মশিউর রহমান উৎসের পরিচয় ছিল। গেদীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আঘাত আসায় গেদী মামলার অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় উৎসকে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৩ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতের কথা বলে যুগের আলো পত্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়ে অফিস থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যান উৎস। এরপর রাতে আর বাসায় ফেরেননি তিনি। রাতভর স্বজন এবং সহকর্মীরা বিভিন্নস্থানে সন্ধান করেও তার কোনো খোঁজ পায়নি।

পরের দিন সকালে রংপুর নগরীর ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের অদূরে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও তার সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত উৎস রহমানের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।