পরিবহন ধর্মঘটে আটকা পড়ে অ্যাম্বুলেন্সে শিশুর মৃত্যু

24

রংপুর বার্তা:পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অ্যাম্বুলেন্সে আটকা পড়া সাত দিনের এক কন্যা শিশু মারা গেছে।

রোববার বিকেলে নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের চান্দগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শিশুর পরিবারের অভিযোগ, বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার সাত দিনের শিশু কন্যাকে অসুস্থ অবস্থায় রবিবার সকালের দিকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাওয়ার পথে উপজেলার পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম নামক স্থানে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি আটকে চালককে মারধর করে। এখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকা থাকে। দুপুর দেড়টার দিকে গাড়ি ছাড়া পেলে শিশুটিকে পাশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত শিশুর চাচা আকবর আলী জানান, আমার ভাতিজী মায়ের দুধ খাচ্ছিল না। এজন্য তাকে বড়লেখা হাসপাতালে নিয়ে সিলেট রওনা দিই। প্রথমে দাসেরবাজারে গাড়ি আটকে চালককে মারধর করেন পরিবহন শ্রমিকরা। পরে অনুরোধ করলে গাড়ি ছাড়ে। চান্দগ্রামে আবার অ্যাম্বুলেন্স আটকে গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। ৫০০ টাকা দাবি করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা এখানে আটকে ছিলাম। এখানে মেয়েটা মারা গেছে। আমরা বড়লেখা থানায় গিয়ে অভিযোগ দিছি।’

বড়লেখা উপজেলা শ্রমিকের শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সন্ধ্যায় বলেন, ‘সিএনজি শ্রমিকরা যেখানে যেখানে ব্যারিকেড দিয়েছিল সকালেই তা তুলে দিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্স আটকানোর সঙ্গে কোনো সিএনজি শ্রমিক জড়িত না।

বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম বলেন, সিলেটে যাওয়ার পথে রাস্তায় আটকে মারা গেছে। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুত্র: ইত্তেফাক