সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারের আগে অনুমতি লাগবে

32

রংপুর বার্তা;সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারের আগে সরকার তথা ওই কর্মচারীর নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে- এমন বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি বিল-২০১৮’ বুধবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের জোরালো আপত্তি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নাকচ হয়ে যায়।

বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা। আপত্তির বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হলেও তা গৃহীত হয়নি। ২১ অক্টোবর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয় সংসদীয় কমিটি।

পাস হওয়া বিলের একাদশ অধ্যায়ের সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধ শীর্ষক ৪১ ধারার উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত হইবার পূর্বে তাহাকে গ্রেফতার করিতে হইলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।’ তবে ১৯৬৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী দুদক অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়েও যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে।

২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৫ ধারায়ও এ বিধান বলবৎ রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন আইনটি কার্যকর হলে ওইসব বিধান সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। আলোচনায় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা বলেন, ফৌজদারি অপরাধের জন্য মন্ত্রী-এমপিদের গ্রেফতারের অনুমতি লাগে না। কিন্তু তাদের অধীনে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে, এটা বৈষম্যমূলক। এটা কালো বিধান।

জবাবে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বলেন, সিভিল সার্ভিসের ওপর একটি সমন্বিত আইনের প্রয়োজনিয়তা রয়েছে। সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের একটি আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ আইনটি পাস হলে তা হবে একটি মাইলফলক। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিলটি চূড়ান্ত হয়েছে। নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন নেই।

বিলের একই ধারার ৩ উপধারায় বিচারাধীন কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বলে দৃষ্টিগোচর হলে তা সরকার ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধে এক বছরের বেশি দণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি যদি তাকে অব্যাহতি দেন, সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও তিনি কর্মচারীতে পুনর্বহাল হবেন।

বিলের চতুর্থ অধ্যায়ে ৭ ধারায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগ লাভের একমাত্র মানদণ্ড ও ভিত্তি হিসেবে মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা স্থির করা হয়েছে। পদোন্নতির মানদণ্ড ধরা হয়েছে মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ এবং সন্তোষজনক চাকরি। বাংলাদেশের নাগরিক নন, এমন কোনো ব্যক্তিকে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ করা যাবে না।

বিলে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।

বিলে কোনো সরকারী কর্মচারী আচরণ, শৃঙ্খলাজনিত কারণে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে লঘু ও গুরুদণ্ড আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। বিলের দশম অধ্যায়ে ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা, বেতন স্কেল নিুধাপে অবনমিতকরণ করা হবে।

গুরুদণ্ড হিসেবে নিু পদ বা নিুতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, চাকরি থেকে অপসারণ এবং বরখাস্ত করা হবে। কোনো কর্মচারীর ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হলে দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। প্রয়োজনে তার বেতনভাতা থেকে আদায় করা হবে। তাতেও সম্ভব না হলে কর্মচারীর বিরুদ্ধে পাবলিক ডিমান্ড রিকোভারি অ্যাক্ট ১৯১৩-এর অধীন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিলে বলা হয়েছে, চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে, যে কোনো কর্মচারী অবসরে যাওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করতে পারবেন। একবার লিখিত আবেদন করলেই তা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। ইতঃপূর্বে তৈরি করা খসড়ায় অবসরের বয়স নির্ধারণ করা হয় ২০ বছর।

সংসদে সংক্রামক রোগ বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন : সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) বিল-২০১৮ এর ওপর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন। রিপোর্টে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের প্রস্তাব করা হয়।
সুত্র:যুগান্তর