আশরাফুলের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

29

রংপুর বার্তা.কম;প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথমে সৈয়দ আশরাফকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। এরপর সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদসহ সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণে এ জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা আবারও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর একের পর এক বিভিন্ন সংগঠন ও উপস্থিত সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের এই নেতার প্রতি। এছাড়াও জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

সর্বস্তরের জনতার জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব উন্মুক্ত করে দেওয়ার আগে মরহুম আশরাফের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় আশরাফের মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়।

এখন সৈয়দ আশরাফের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। বেলা ১২টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাঁ ময়দানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। কিশোরগঞ্জ থেকে তার মরদেহ নেয়া হবে তার জন্মস্থান ময়মনসিংহে। ময়মনসিংহে তৃতীয় জানাজার পর বিকেলে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে বাদ আসর তাকে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ আশরাফ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

শনিবার (০৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মরদেহ বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছায়। কফিনে মোড়ানো মরদেহ গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই সাফায়েত উল ইসলাম। এ সময় বরেণ্য এই রাজনীতিবিদকে দেখার জন্য বিমানবন্দরে ভিড় করেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও আত্মীয় স্বজনরা।

বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ২১ বেইলি রোডের সরকারি বাসায় আনা হয়। এরপর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘরে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই সৈয়দ আশরাফ আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। এ অবস্থাতেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন সৈয়দ আশরাফ।
সূত্র:পিবিনিউজ