জেএমবির উত্তরবঙ্গের প্রধান সমন্বয়কসহ গ্রেফতার চার

73

রংপুর বার্তা.কম:নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির উত্তরবঙ্গের প্রধান সমন্বয়কসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব-১৩ রংপুর।

এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভলবার,দুইটি ম্যাগাজিন,তিন রাউন্ড তাঁজা গুলি ও বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করে।

সোমবার ৭ জানুয়ারি তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-জেএমবির উত্তরবঙ্গের প্রধান সমন্বয়ক মো. আব্দুর রহমান বিশ্বাস।পিতা-মাওলানা মো. আবুল কাশেম, সাং-ভাটিয়ার চর, থানা-চিলমারী, জেলা-কুড়িগ্রাম (বর্তমানে সাং-চর সাজাই মন্ডলপাড়া, থানা-রাজীবপুর, জেলা-কুড়িগ্রাম)।

মো. আখিনুর ইসলাম (২৩), পিতা-মোঃ আকবর আলী, সাং-ডোমা বাঘা, থানা-বিরামপুর, জেলা-দিনাজপুর।

মো. লোকমান আলী কোরবান(৫৫), পিতা-মৃত ঈমান উদ্দিন, সাং ডাংগাপাড়া চৌধুরী পাড়া (৯ নং ওয়ার্ড্), থানা-তারাগঞ্জ, জেলা-রংপুর।

মো. মিজানুর রহমান(৩৮), পিতা-মৃত মতিয়ার মন্ডল, সাং-মন্ডল পাড়া (৯ নং ওয়ার্ড্), থানা-তারাগঞ্জ, জেলা-রংপুর।

র‌্যাব জানান,জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা মো. আবুল কাশেম কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কর্তৃক ২০১৭ সালের মার্চ্ মাসে মিরপুর ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর সে বেশী সক্রিয় হয় এবং তখন থেকেই উত্তরবঙ্গের জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সমগ্র উত্তরবঙ্গে জেএমবি’র বিভিন্ন কার্যক্রম ও নাশকতার পরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়।

তার দেয়া তথ্য মতে আরো বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হবে।তারা সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন লোকজনকে ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থ্ সাহায্য নিত যা দিয়ে তারা সংগঠন চালানোর কাজ করে থাকে।সংগ্রহীত অর্থ্ দ্বারা তারা অস্ত্রশস্ত্রও কিনে থাকে।এছাড়া এলাকা ভিত্তিক তারা নতুন সদস্য সংগ্রহ, সদস্যদের ডাটা বেজ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য পরিকল্পনা করে থাকে।

তারা শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়, সমগ্র দেশেই তাদের নানান ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে, বিশেষ করে বিভিন্ন এনজিও থেকে অর্থ্ ছিনতাই, ইসলাম বিরোধী প্রচার করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা করা ইত্যাদি।

যাতায়াতের জন্য তারা বিভিন্ন এলাকা হতে ছিনতাই করে মটর সাইকেল সংগ্রহ করে এবং সেগুলো ব্যবহার করে থাকে।

জেএমবির সাংগঠনিক গোপন বৈঠকে তারা নিয়মিত অংশগ্রহণ করতো। জঙ্গী সংগঠনে তরুণদের উদ্ভুদ্ধকরণ, নতুন জঙ্গী সদস্য সংগ্রহ, সংগঠনের জন্য চাঁদা প্রদান, চাঁদা সংগ্রহ এবং সংগৃহিত অর্থ্ দ্বারা অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ ইত্যাদি কর্মকান্ড লিপ্ত থাকার কথা স্বীকার করে।