উত্তরবঙ্গের কয়লা খনির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত-হামিদ

27

রংপুর বার্তা.কম:উত্তরবঙ্গের কয়লা খনিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে তা হতে হবে পরিবেশ ও স্থানীয়দের কথা বিবেচনা করে বললেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শনিবার এফইআরবি আয়োজিত মিট দ্যা এনার্জি রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নসরুল হামিদ।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমদানিকৃত কয়লার দর দুইশো ডলারের উপরে পড়ে। সেখানে দেশীয় কয়লা ১২০ ডলারের মধ্যে পাওয়া সম্ভব। আমরা চাচ্ছি বালাসীঘাট ব্যবহার করতে। সেখানে রেল লাইন রয়েছে। আরও একটি লাইন বসিয়ে উত্তরের কয়লা দক্ষিণে নিতে পারি। নদী ড্রেজিংয়ের জন্য একটি বরাদ্দ রাখলেও খরচ বেশি পড়বে না।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে।ভবিষ্যতে কয়লায় কার্বন ট্যাক্স বসতে পারে এটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

নসরুল হামিদ বলেন, ২০২৩ সালের দিকে বেজডলোড পাওয়ার প্লান্টগুলো উৎপাদনে আসবে। ব্যয়বহুল তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বসিয়ে দেওয়া হবে। তখন বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। আমরা ভাবছি তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০ হতে ১২ শতাংশ উৎপাদিত হবে।

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তিনি বলেন, অবসরে এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। মাল্ট্রিক্লেইন সার্ভের কাজ উপর মহলের সিদ্ধান্তে আপাতত বন্ধ, এটা না হলে বিদেশি কোম্পানি আসতে চাইবে না। সার্ভে করে যদি দেখাতে পারি সম্ভাবনার দিকগুলো তখন বিদেশি কোম্পানি আগ্রহী হবে। এটা না করতে পারলে আমরা পিছিয়ে যাবো।

স্থলভাগে অনুসন্ধানে দুর্বলতার জন্য জ্বালানি বিভাগকে দায়ি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের কাজ করা উচিত। আমাদের বড় বাধা হবে নতুন টেকনোলজি না জানা। জ্বালানিতে লিডিংয়ের লোক ছিলো না, এখন লোক তৈরি করা হচ্ছে। প্রফেসনালিজম বাধা বলতে পারেন।

আইপিপি থেকে বিদ্যুতের দাম প্রসঙ্গে বলেন, বড়গুলো আসলে বুঝতে পারবো কেমন দর পড়ে। ইপিসি কন্টাক্ট্র কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক করা হচ্ছে। এতে দর বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আমদানি নির্ভর গ্যাস খাত ঝুঁকিতে ফেলবে কিনা, বিশেষ করে দামের প্রসঙ্গে-জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের চাহিদা খুবই ছোটো। কাতারের রিজার্ভ ১২শ টিসিএস, সারাবিশ্ব দীর্ঘদিন চলবে। শেলগ্যাস আসছে, কানাডা, আফ্রিকা গ্যাস উত্তোলন বাড়াবে। আমার মনে হয় এটা কোনো সংকট তৈরি করবে না।

এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে বলেন, ৮ ডলার দিয়ে কিনলেও ৭ সেন্টের মতো পড়ে। এরচেয়ে বেশি লাগছে ইন্ডিয়ার বিদ্যুতে। তাহলে নিজেরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে বেজডলোড বাড়লো এটা আমাদের জন্য ভালো। তবে আমি উদ্বিগ্ন আছি উদ্বৃত বিদ্যুৎ নিয়ে। এখনই আমার অনেক বিদ্যুৎ উদ্বৃত। ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা না হলে সমস্যা।

গ্যাসের অবৈধ সংযোগ প্রসঙ্গে বলেন, এলএনজি ৩০০ এমএমসিএফডি ব্যবহার করছে চট্টগ্রাম। ঢাকায় আসছে ১৫০ এমএমসিএফডি। ঢাকায় আসাগুলোর কোনো হদিস পাচ্ছি না।

ঢাকা শহরের সব পাইপলাইন পরিবর্তন করা হবে। এতেই সব ধরা পড়বে। আর পাইপগুলো অনেক পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

নসরুল হামিদ বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে ৮০ থেকে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে। এই বিনিয়োগ আমাদের জন্য কোনো সমস্যা নয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এখন অনেক বড় বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব আসছে। যার এর আগে লক্ষ্যণীয় নয়। মাজদা আমাদের সোলারে বিনিয়োগ করতে চায়, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করতে চায়।

জ্বালানি তেল নিয়ে আর ভাবছি না। এখন যা আছে আর চলমান প্রকল্প যথেষ্ট। ভবিষ্যতে ইলেক্ট্রিক্যাল গাড়ি আসছে। চীনের একটি প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরে সফলভাবে পরিচালনা করছে। আমরাও ইলেক্ট্রিক্যাল বাস, ট্রেনের বিষয়ে ভাবছি।
সূত্র:বার্তা২৪