শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম সংযমী নেতা

7

ডেক্স নিউজ:ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং চারদিন ব্যস্ত সময় কাটিয়ে গতকাল ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তার এ সফরকালে দু’দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সই হয়েছে।
স্বাস্থ্য, কৃষি, নৌপরিবহন, পর্যটন খাতে সহযোগিতা এবং জনপ্রশাসন খাতে প্রশিক্ষণ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এসব চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে দু’দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ভারত হয়ে স্থলপথে বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ সুগম হয়েছে। এছাড়া দু’দেশ বেশকিছু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছে।

বাংলাদেশের বাজারে ভুটান তার ১৬টি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা চেয়েছে এবং ভুটানের বাজারে বাংলাদেশ চেয়েছে ১০টি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা। এ নিয়ে শিগগিরই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ভুটান আমাদের অন্যতম নিকট প্রতিবেশী দেশই শুধু নয়, বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই দেশটি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করেছিল ভুটান। কাজেই ভুটানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আত্মিকও বটে। বাংলাদেশ ও ভুটান দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কেরও সদস্য। বর্তমানে সার্কের কার্যকারিতা প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়ায় এখন দ্বিপক্ষীয় ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয় দুটি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে চলে এসেছে।

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভুটানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশেই এমন অনেক কিছু বিষয় ও পণ্য আছে, যা বিনিময়যোগ্য হয়ে উঠলে দুই দেশেরই সমৃদ্ধি ঘটবে। যেমন, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভুটান বেশ এগিয়ে গেছে। দেশটির কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বড় সুযোগ রয়েছে আমাদের। বস্তুত এ নিয়ে বেশকিছু দিন ধরেই আলোচনা চলছে।

আমরা আশা করব, বিষয়টি অচিরেই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে ভুটান বাংলাদেশের কাছ থেকে কৃষি, শিক্ষা, আইসিটি ইত্যাদি খাতে সহযোগিতা পেতে পারে। উল্লেখ্য, ভুটানের অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়ালেখা করছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংও পড়াশোনা করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। তিনি ভালো বাংলা বলতে পারেন। ফলে দু’দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে এখন।

বর্তমান যুগটি কানেকটিভিটির। এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে উন্নয়নের যে ধারণা, তা আমরা ভুটানের সঙ্গেও প্রয়োগ করতে পারি। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এমন অনেক পণ্যই রয়েছে, যা বৃহৎ আকারে আমদানি-রফতানির মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতি উন্নত করা যেতে পারে। বস্তুত দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রটির সম্প্রসারণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দুই দেশের পর্যটন-সম্পর্ক সম্প্রসারণ করা। বাংলাদেশ থেকে যত সংখ্যক পর্যটক ভুটানে যান, বাংলাদেশে আগত ভুটানি পর্যটকের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক কম। দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে ভুটানের পর্যটকদের অধিকমাত্রায় আকৃষ্ট করা সম্ভব। আমরা ভুটানের সঙ্গে আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি প্রত্যাশা করছি।
সুত্র:যুগান্তর