এরশাদের নামাজে জানাযা কালেক্টরেট মাঠে অনুষ্ঠিত হবে

33

রংপুর বার্তা: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামাজে জানাযা বাদ জোহর রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

নামাজে জানাযায় ইমামতি করবেন রংপুর করিমিয়া নুরুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলান মুহম্মদ ইদ্রিস আলী।

তাকে সমাহিত করতে পল্লী নিবাসের লিচু বাগানে প্রস্তুত করা হয়েছে।

পল্লীনিবাসে তাঁকে সমাহিত করার প্রক্রিয়ায় কোনো বাঁধা আসলে রক্তের বিনিময়ে হলেও তা প্রতিহত করে অসিয়কৃত স্থানেই সমাহিত করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তরাঞ্চল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।

সোমবার রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় জাতীয় পার্টির যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য, মহানগর সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তফিজার রহমান মোস্তফা।

জানা গেছে,মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এরশাদ স্যারকে বহনকারী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসের হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করবে। সেখান থেকে তার মরদেহ নেয়া হবে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং তাঁকে শেষ দর্শন করবেন। বাদ জোহর তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে জানাযায় ইমামতি করবেন রংপুর করিমিয়া নুরুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলান মুহম্মদ ইদ্রিস আলী।

জাতীয় পার্টির এক নেতা জানান , নামাজে জানাযায় ও দাফন কার্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বায়ান্নর আলোকে জানান, জানাযা নামাজ শেষে স্যারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পল্লী নিবাসে। সেখানে লিচুতলায় তাঁকে সমাহিত করা হবে। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

লিচুতলায় প্রস্তুত কবর: রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বায়ান্নর আলোকে জানিয়েছেন, এরশাদ স্যারের পল্লী নিবাসের ক্যাম্পাসের ভেতরে গড়া পিতা মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতলের লিচু বাগানের উত্তরপূর্ব পাশে সমাধির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার বেলা ৩টায় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কবর খনন শুরু করা হয় । কবরটি নগরীর দর্শনা মোড় এলাকার জাতীয় পার্টি কর্মী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, আশরাফ আলী ও রোকনুদ্দিন এবং বালাপাড়া এলাকার জাকির হোসেন ও সবুজ আহমেদ কবরটি পুরোপুরি প্রস্তুত করেন। এখন কবরটি প্রস্তুত আছে। নেতাকর্মীরা পাহাড়া দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা বলেন, উন্নয়ন অগ্রগতি ও পরমত সহিষ্ণু রাজনীতির চেতনার বাতিঘর অবিসংবাদিত রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব এরশাদকে কোনোদিন ভালোভাবে রাজনীতি করতে দেয়া হয়নি। সে কারণে মৃত্যুর সময়েও তাঁর নামে ঝুলছে দুটি মিথ্যা মামলা। তার মৃত্যুর পরেও তাকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে জাতীয় পার্টিকে ধংসের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করার অপচেষ্টা চলছে। রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষ এই ষড়যন্ত্রকে কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আরও বলেন, আমরা ঢাকায় খোলা স্পেসে তাঁকে সমাহিত করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা এরশাদের দেয়া জাতীয় তিন নেতার মাজারের পাশে অথবা সংসদ ভবনের পাশে আসাদ গেট এলাকায় জায়গার জন্য সরকারকে বলেছিলাম। কিন্তু সেটা সরকার দেয়নি। বরং তাঁকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে কবরস্থ করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

মেয়র মোস্তফা বলেন, বনানী কবরস্থানে সমাধি দেয়ার মাধ্যমে তাঁকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁকে যদি জাতীয় নেতার মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় আমাদের প্রস্তাবিত খোলা স্পেসে সমাধি দেয়া হতো, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু যেহেতু তা করা হচ্ছে না, সেকারণে রংপুরেই তাঁকে সমাহিত করতে হবে। এটা আমাদের একদফা দাবি।

মোস্তফা বলেন, তিনি পল্লী নিবাস থেকেই রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করেছিলেন। একটি নতুন বাড়িও নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু সেই বাড়িতে উঠতে পারেননি। পল্লী নিবাসে সমাহিত করে আমরা একটি স্মৃতি কমপ্লেক্স তৈরি করবো। সেখানে এরশাদের জীবন দর্শন নিয়ে একটি মিউজিয়াম করা হবে। মসজিদ মাদরাসা কমপ্লেক্স থাকবে। তাঁর সমাধিকে ঘিরে তাঁর জীবন ও কর্মের চেতনার বাতি আমরা দেশে বিদেশে জ্বালিয়ে দিতে চাই। তাঁর অবর্তমানে তাঁর ভাই জিএম কাদেরের নির্দেশনার আলোকে আমরা জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য সকল প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।