সিটি নির্বাচনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার

5

রংপুর বার্তা.কম: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিনের সিটি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। আহত সাংবাদিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল আগামী নিউজে কর্মরত।

দুপুর ১২টা নাগাদ আহত সুমনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে সিটি স্ক্যান করাতে বলেছেন।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জাফরাবাদের এই কেন্দ্রটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খোকন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সংসদ সদস্য সাদেক খানের ভাতিজা রাজেশ খান।

ঘটনার সময় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি সালেহ আকন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আহত সাংবাদিক সুমনের সঙ্গেও রয়েছেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনের খবর সংগ্রহে গিয়ে অনেক সংবাদকর্মীই নানা ধরণের বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোটের খবর সংগ্রহে মাঠে থাকা সারাবাংলার কর্মী রাজনীন ফারজানা তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আমরা কয়েকজন সংবাদকর্মী দাঁড়িয়ে ছিলাম। তথ্য আদান প্রদান করছিলাম। এসময় ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা (এএসআই দেলোয়ার) আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন। তিনি বললেন, আপনরা এখানে দাঁড়িয়ে কি করেন? ১০ মিনিটের বেশি এখানে থাকা যাবে না। এর জবাবে আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাই -‘কেন এটা কি কোন নিয়ম?’ উত্তরে এএসআই দেলোয়ার বলেন, আপনি মহিলা মানুষ –আপনি কেন কথা বলেন?

পরে তিনি ভোটারদের অসুবিধা হচ্ছে জানিয়ে আমাদের চলে যেতে বলেন। অথচ ওই সময় সেখানে কোন ভোটারই ছিল না। পরে বাইরে বের করে দেওয়া হয় । এসময় আমাদের ছবিও তুলে রাখেন । তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে আমরা ভোট কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হই।’

এদিকে, পরিবর্তন ডটকমের ফটো সাংবাদিক ওসমান গনি বেলা সোয়া এগারটা নাগাদ মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, টিকাটুলী কামরুন নেছা ‍ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছিল। এসময় আমি ছবি নিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ২০/২৫ জন মানুষ আমার ওপর চড়াও হন । তার আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। তারা আমার মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নেন। পরে সেখানে উপস্থিত অন্য সংবাদকর্মীরা আমাকে তাদের হাত থেকে বাঁচান। এ সময় তাদের অনুরোধে আমার মোবাইল ও ভিডিও ফেরত দেওয়া হলেও তারা আমার সব ছবি আর ভিডিও ডিলিট করে দেন।

এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় খবর সংগ্রহের সময় মারাত্মকভাবে আহত হন সাংবাদিক জিসাদ ইকবাল। তিনি বার্তাসংস্থা প্রেস বাংলা এজেন্সি- পিবিএ’র বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের স্থায়ী সদস্য। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন ১৭ নং ওয়ার্ডে নিকুঞ্জের জান-ই-আলম সরকার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে দশটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অওয়ামীলীগ প্রার্থী ইসহাক মিয়ার সমর্থকদের হাতে তিনি মারধরের শিকার বলে অভিযোগ করেন।

জিসানের এক সহকর্মী বলেন, ওই কেন্দ্রে ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার পর ভোটারদের বের করে দিয়ে শিশুদের দিয়ে ভোট দেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করতে গেলে জিসানকে বাধা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তার ওপর হামলা করে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন ও তার ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ।