রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গুর্জিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নগণ্য, পাঠদানের মানের অবনতি, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক নুরের ছবি বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। বিদ্যালয়টিতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পরীক্ষায় একজন করে শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উভয় বছরই শতভাগ পাস করেছে। অথচ সরেজমিনে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিদ্যালয়টির অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এ পদক্ষেপে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে

সাংবাদিকদের সরেজমিন পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ রাখার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকেরা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে গেলে কর্মরত শিক্ষকরা গেট বন্ধ করে দেন। পরে বিকল্প পথ দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন সাংবাদিকেরা। এ সময় সেখানে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারীসহ মোট আটজনকে উপস্থিত দেখতে পান তাঁরা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ২০২৬/৯২৮-এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত সপ্তাহে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে এর প্রবেশপথ বন্ধ দেখতে পান। এ সময় বিদ্যালয়ে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের দুর্ব্যবহারের বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে

নোটিশে আরও বলা হয়, গত দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পাঠদানের মানের দৃশ্যমান কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। বরং দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও প্রধান শিক্ষক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে

এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর কোনো বক্তব্য নেই বলে ধরে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, “আমরা তদন্ত টিম গঠন করেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়