যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে তিনি নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রণোদনার লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এর মধ্যেই ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গেছে এক বিষণ্ন ও বিদায়ী সুর, যা মার্কিন রাজনীতিতে একটি যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে
কানসাসের স্যালিনা আঞ্চলিক বিমানবন্দরে নিজের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ র্যালিতে (রোববার) বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ৩২ দিনের ৩০ সমাবেশের ইতি টেনেছিলেন স্যালিনায়। ১১ বছর ধরে চলা তাঁর কোলাহলপূর্ণ ও জমকালো রাজনৈতিক সমাবেশগুলোর ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ রাতেই আমি এটা বন্ধ করে দিচ্ছি। এটাই শেষ।’
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
বিভিন্ন সমাবেশে ট্রাম্প আবার প্রমাণ করেছেন রিপাবলিকান পার্টিতে তাঁর নিরঙ্কুশ আধিপত্য। রক কনসার্টের উন্মাদনা, ধর্মীয় পুনরুজ্জীবন আর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উত্তেজনার এক অপূর্ব মিশ্রণ ছিল এই রাজনৈতিক সমাবেশগুলো। তবে নিজের নিম্ন জনসমর্থন এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদের অন্তিম পর্যায়ে এসে ট্রাম্প এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন, যেখানে হাজার হাজার ভক্তের উন্মাদনা ও গর্জনের সেই দিনগুলো হয়তো আর থাকবে না। ২০১৫ সালে আলাবামার মোবাইলে প্রথম বিশাল সমাবেশের পর থেকে ট্রাম্পের র্যালির ফরম্যাটে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। এলভিস প্রিসলি কিংবা ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার গান, ট্রাম্পকে ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরা ভিডিও প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হতো এই শো। ভাষণে ট্রাম্প বরাবরের মতোই ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং নানা বিতর্কিত মন্তব্য টেনে এনেছেন। তবে এবার ভোটারদের আকর্ষণ করতে তিনি একটি বড় অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলারের ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বা চেক দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। যদিও এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে খোদ তাঁর সমর্থকদের অনেকেও সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনে জয় পেতে ডেমোক্র্যাটরা ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্যে ব্যালট কারচুপির অভিযোগ তুলে সরকারি দলের প্রার্থীরা আগে থেকেই আদালতে আপিল করে রেখেছেন। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমেরিকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আমূল বদলে দেওয়া এই র্যালির শেষ মুহূর্তে এসে ট্রাম্প তাঁর চিরাচরিত ভঙ্গিমায় কানসাসের তরুণ ও মেগা সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সেরাটি দিয়ে তোদের শেষটা করতে। ভাষণ শেষে বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী, সম্পদশালী, স্বাস্থ্যবান এবং সব শেষে ‘আমেরিকাকে আবারও মহান করে তোলার’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিলেজ পিপল-এর জনপ্রিয় গান ‘ওয়াই.এম.সি.এ’–এর তালে তালে চিরচেনা ভঙ্গিতে ঘুষি উঁচিয়ে ও কোমর দুলিয়ে সমর্থকদের বিদায় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চোখধাঁধানো এয়ার শো—যেন নীল আকাশে পাখির মেলা
